ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে উঠে এল সিগন্যালের ত্রুটি। রেলের তরফে একটি যৌথ পরিদর্শন রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ওই যৌথ রিপোর্টে সিগন্যালের ত্রুটির কথাই বলছেন রেল আধিকারিকেরা। তবে এটি প্রাথমিক রিপোর্ট। বিস্তারিত তদন্তের পর দুর্ঘটনার কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
যৌথ পরিদর্শন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‘আপ মেন লাইনে সবুজ সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রেনটি সেই লাইনে ঢোকেইনি। ট্রেন ঢুকেছিল লুপ লাইনে। সেখানে আগে থেকে একটি মালগাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। তার সঙ্গে সংঘর্ষে করমণ্ডল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়।’’
ডাউন যশবন্তপুর নয়, দুর্ঘটনার মূলে ছিল চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেসই (Coromandel Express)। এমনই দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।
অন্য দিকে, সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথমে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে করমণ্ডল এক্সপ্রেস। ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় করমণ্ডল এক্সপ্রেসের। ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে আসছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনে হঠাৎ কোনওভাবে দুঘর্টনা ঘটে এবং পাশের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে ২১টি বগি লাইনচ্য়ুত হয়ে যায়। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের তিনটি বগি ছিটকে পড়ে পাশের ডাউন লাইনে।
সেই সময়ই ওই লাইন দিয়ে আসছিল ডাউন যশবন্তপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস, যা হামসফর এক্সপ্রেস নামেও পরিচিত। লাইনের উপরে পড়ে থাকা কামরা গুলির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় যশবন্তপুর এক্সপ্রেসের। সংঘর্ষের জেরে হামসফর এক্সপ্রেসের দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
ওই সূত্রেই জানা গিয়েছে, ওড়িশার ওই স্টেশনে স্টপেজ না থাকায় সর্বোচ্চ গতিতে ছুটছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। সেই সময়ই হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটে এবং করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন পাশের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির উপরে উঠে যায়।