বিন আনোয়ার
রামনবমী একটি ধমীয় বিষয়। বহু হিন্দু তা পালন করেন। যারা ধুমধাম করে রামনবমী পালন করেন তারা মূলত অবাঙালি। বাংলায় রামনবমী আমদানি করেছে বিজেপি। এখন গোটা দেশে যে ভাবে রামনবমী পালন করা হয় তা আগে ছিল না। আজকের দিনে রামনবমীকে রাজনৈতিক কার্যক্রমে পরিণত করা হয়েছে। এই রামনবমী নিয়ে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এমনকি বাংলাতেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। গুজরাটে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। রামের নামে অস্ত্র হাতে হুঙ্কার ব্যাপারটির মধ্যে যে ধর্ম কম, উত্তেজনা সৃষ্টির প্রয়াস বেশি তা বুঝতে বাকি নেই কারো।
আরএসএস হিন্দুদের মধ্যে একটা মিলিট্যান্সি ঢোকানোর চেষ্টা করে আসছে সেই কোন থেকে।যারা গেরুয়া হিন্দুত্বকে দেশপ্রেম মনে করবে এমন লোক তাদের চায়। সে লোকের সংখ্যা বেড়েছে নিঃসন্দেহে। হিন্দুত্ব ও দেশপ্রেমকে গুলিয়ে দেওয়ার কাজটি অসাধারণ দক্ষতায় করেছে তারা। হিন্দুদের বিজেপি বারবার বলার চেষ্টা করছে তাদের জীবন নাকি বিপন্ন। কাদের জন্য তাদের জীবন বিপন্ন, সে উত্তর সহজ। মুসলিমদের জন্য। তাই সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের একজোট হতে হবে। মোদ্দা কথা হল হিন্দুদের বলা হচ্ছে সকলে মিলে তারা যেন বিজেপিকেই ভোট দেয়। কারণ এই দলটি তাদের জন্যেই।
হিন্দিকে হিন্দুদের ভাষা বানানোর চেষ্টা হচ্ছে।একদেশ এক ভোট করার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বদলের চেষ্টা করা হচ্ছে। হিন্দু ধর্ম যতটা না ধর্ম তার থেকে অনেকে বেশি হল সংস্কৃতি। সেখানেই কুঠার মারার চেষ্টা হচ্ছে। গোটা দেশে একটা মোটা দাগের হিন্দুত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে ,যদিও তা সফল হওয়া কঠিন। কিন্তু বিজেপি যে এই কাজে আগের থেকে অনেকে বেশি সফল সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।
আরও পড়ুন: আজ বিশ্ব মানবিক দিবস ? দেখে নিন ঠিক কত দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে মানবতা?
বিজেপি আরএসের এই নীতি বহু কালের। তবে তা যেভাবে রাজনৈতিক সাফল্য পাচ্ছে তা খানিকটা অভিনব। তাই পদ্মফুলের দেখাদেখি ঘাসফুলিদেরও রামনবমীতে মিছিল করতে দেখা গেল। বিহারীবাবু শত্রুঘ্ন আসানসোলে যা করলেন সেই মিছিল দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি পদ্মফুলের আছেন, নাকি ঘাসফুলে। ঘাসফুলিরা অনেকেই জয়শ্রীরাম স্লোগান হাইজ্যাক করে নিয়েছিলেন। দিদিমনি যেদিন রামনবমী মিছিলে অবাধ অনুমতি দিয়েছিলেন, সেদিন বোঝা গিয়েছিল ঘাসফুলেও বাজারেও পদ্মের স্লোগান।
আজ উপনির্বাচন। দুই পদ্ম ফেরতকে টিকিট দিয়েছেন দিদি। যাদের এতদিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিতরে হিন্দুত্ব ঢুকে রয়েছে তারা দল পালটাতে পারে কিন্তু তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাবে না। দিদিমনি তা যদি এইভাবে বরদাস্ত করেন, তাহলে আগামীতে পদ্মফুলের দোসর পার্টিতে পরিণত হবে ঘাসফুল। তখন মুসলিমদের ফের একবার অন্য রাজনৈতিক প্রতিকের কথা ভাবতে হবে। আশা করা যায় দিদি সেটা খেয়াল করছেন।
আরও পড়ুন: World Forest Day 2022: গাছেদের ভালোবেসে বনেই বাস আব্দুল করিমের!