ছেলে ও স্ত্রীকে তাঁর বাপের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসার পরদিনই রহস্যজনকভাবে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার। মৃতের অণ্ডকোষে ফোটানো ছিল সেফটিপিন। শরীরের নিম্নাংশ ভেসে যাচ্ছিল রক্তে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই যুবকের অণ্ডকোষে সেফটিপিন ফুটিয়ে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার ফুলিয়ার মাঠপাড়া এলাকায়। যদিও ওই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে চেয়ে রয়েছে।
এই গোটা ঘটনায় মলয়ের স্ত্রীর দিকে সন্দেহের আঙুল উঠছিল। প্রতিবেশীদের দাবি ছিল, তিনি বিবাহবর্হিভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করতেন মলয়। এই নিয়ে গ্রামে বসেছিল সালিশি সভাও। যদিও সংসার সুখেই ছিল, দাবি তাঁর স্ত্রীর। তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পরশুদিন থেকে আমি এবং আমার ছেলে বাড়িতে ছিল না। ওর মামা বাড়িতে গাজন হচ্ছিল। ছেলে চিৎকার করছিল মামাবাড়ি যাবে বলে। তাই ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম। ও মামা বাড়ি গেলে আর ফিরতে চায় না। গতকাল বিকেলে ও প্রথম দরজা খুলে ঘরে ঢোকে এবং ওর বাবাকে বিবস্ত্র অবস্থায় খাটে শুয়ে থাকতে দেখে। আমি ঘরের মধ্যে গিয়ে দেখে চমকে উঠি। চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকি।” মলয়কে খুন করা হয়েছে বসে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁর স্ত্রী।
আরও পড়ুন: Viral Video: হাতে সিগারেট নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা, ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই বিপাকে দুই কিশোরী
পাশাপাশি স্বামী মোবাইল এবং যৌন ছবির প্রতি আসক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি ওকে একাধিকবার বলতাম এই ধরনের ভিডিয়ো এবং ছবি থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু, ও শোনেনি। বলত ফোনে ইন্টারনেট রয়েছে। তা নষ্ট হবে। এই নিয়ে আমার ওর সঙ্গে মনোমালিন্যও হয়েছে। ”
মলয়ের মৃত্যুতে একাধিক প্রশ্নের ভিড়। মলয় আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাঁকে খুন করা হয়েছে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার কারণে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে মলয় যদি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যাই করে থাকেন, তাহলে তাঁর অণ্ডকোষে সেফটিপিন ফোটানো কেন? তৃতীয় প্রশ্ন, মলয় বসাকে যদি খুনই করা হয়ে থাকে, তাহলে তার কারণ কী? খুনিই বা কে? পুলিশ মৃত মলয়ের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মলয় বসাকের পর্নের প্রতি আসক্তি ছিল বলেই দাবি তাঁর স্ত্রীর। তবে কী যৌন উত্তেজনার বশে এই কাজ করেছেন মলয়, উঠছে প্রশ্ন।